শিঁকরের খোঁজে

by Suman Kundu on March 02, 2012

অাজ শহরের ব্যস্ততা নেই, নেই অফিস যাওয়ার তারা, ঘরিটা তবু বেজে উঠল, অন্ন্য দিনের থেকে একটু অাগেই। মনে পরলো, কাল ঘুমোতে যাওয়ার সময় ঘরিতে alarm দিতে হয়েছিল। সকাল সকাল খেঁজুরের রস খাওয়ার কথা! কতো বছর খাইনি! ঘুম ঘুম চোখে খিলটা সরিয়ে দরজাটা খুলতেই দেখলাম একটুকরো রোদ সামনের মেঝেতে পরেছে, খুব মিস্টি লাগলো। দাড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম, সূযের্‌‌‌‍‍‍‌র অালোয় নতুন বোনা ধানের খেতগুলি ঝলমল করছে। বেশ ঠান্ডা, শহর কলিকাতার থেকে অনেকটাই বেশী। দারুন উপভোগ্য। সেই '৯৯ এ ছেরেগেছি অার এখন ২০১২, তেরোটা বছর কেটেগেল। মাঝে অনেকবার এসেছি বটে, কিন্ত সকাল দেখার সুজোগ পাইনি (অাসলে দিইনি)। প্রতিবারই, কয়েক ঘন্টা কাটিয়ে রওনা দিয়েছি ইট, পাথরের শহর, কলকাতায়। এবারে ব্যাপারটা একটু অালাদা। প্রথম থেকেই ঠিকছিল ২ টি রাত কাটানোর, যদিও idea টা আমার ছিল না। খেঁজুরের রস, ১০৮ শিব মন্দির সবকিছুর plan-ই বনের ইচ্ছেয়। তাই কাল সন্ধেয় এসেছি, অামাদের গ্রাম, "কৃষ্ণদেবপুর"-এ। এখান থেকেই আমার পথ চলার শুরু।

এতদিন English-এ ব্লগ লিখেছি, কিন্তু অাজ সকালের পরিবেশটা একদম আলাদা। তাই লেখার ইচ্ছেটাও। অামার ভাই, মানে কাকুর ছেলে, রস নিয়ে অাসতেই ৩ গেলাস শেষ করেছি, দিয়ে camera-টা নিয়ে বেরিয়ে পরেছিলাম। ছোটবেলার চেনা রাস্তাগুলি, অনেকটাই অচেনা অাজ। বাড়ীর পিছনের আম বাগানটা, আজ নেই। নেই করমচা গাছটাও। যেখানে আমরা cricket খেলতাম, সেখানে এখন ঝুরঝুরে সুখনো মাটি আর কিছু কলাগাছ। অনেক কিছুই নেই, তবু গ্রামের গন্ধটা অাজও পেলাম, একই রকম। কিছু ছবি টুলেছি, খুব শীঘ্রই upload করব। Laptop টা নিয়ে এসেছিলাম ভাগ্গিস, সকাল থেকেই লিখতে ইচ্ছে করছিলো। এবারে বাংলায় লিখব, আমার মাতৃভাষা। বাংলায় লেখাটাও তো সময় সাপেখ্য ব্যাপার, লেখার অভ্যেসটাই নেই যে। লিখতে লিখতে অনেকটা সময় কেটে গেলো, বিকেলে ১০৮ শিবমন্দিরের plan, বাকি লেখাটা ফিরেই লিখতে হবে।


কালনার ১০৮ শিব মন্দির: ফিরে আসতে আসতে অনেকটাই রাত হয়েগেছিল, তাই সেদিন আর লিখতে বসিনি। তারপর দুই হপ্তা পার হয়ে গেছে। সেই শহরের ব্যাস্ততা। যাইহোক, অম্বিকা কালনা railway station, সেখান থেকে রিক্সা। ২০ টাকা করে ভাড়া নিল, সেই ছোটবেলায় এসেছি। অল্প অল্প মনে অাছে। আমি আবার একটু ভুলমনা কিনা। Station থেকে ২ K.m. এর মতন হবে। কলিকাতা থেকে আসতে হলে কাটোয়া লোকাল (Train: Katwa Local). হাওরা (Howrah) station থেকে ২ ঘন্টা মতন লাগবে। For reference, an English note is added at the end of the post. মিনিট কুড়ী পর পৌছলাম শিব মন্দিরের gate এ। দেখে ভাল লাগলো, সরকার থেকে মন্দির গুলোর সংরক্ষনের ব্যাবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি এতগুলি মন্দির আছে সেটাই মনে ছিলনা। আসলে আগে এই চত্তরটা অনেকটাই জঙ্গলে ভরা ছিল।

১০৮ শিব মন্দিরটা ২ টি circle-এ, ভিতরের circle-এ ৩৪-টি আর বাইরেরটায় ৭৪-টি মন্দির। কিছু শিবলিঙ্গ শ্বেত পাথরের আর কিছু কাল পাথরের। তবে সেরকম কোনো ছন্দ (pattern) লখ্য করলাম না। মাঝে একটা বড় ইঁদারা। বাগানটা বেশ যত্ন করে সাজিয়েছে দেখলাম। বেস লাগল! খানিকটা সময় চক্কর খেতেই কেটেগেল। রাস্তার ঠীক উল্টোদিকেই মন্দির কমপ্লেক্স; এখানের শিবমন্দিরটার গায়ে দারুন টেরাকোটার কাজ। একটু এগিয়ে গেলেই ওই চত্তরের সবচেয়ে পুরান মন্দিরখানা, যদ্দুর মনে আছে, মন্দিরটা ছিল গিড়িগোবর্ধনের। অতো নামধাম আমার আবার বেশি মনে থাকেনা, তাই আর বেশি কিছু বললাম না এখানে। সব মিলিয়ে একটা দারুন সন্ধ্যা কাটিয়েছি সেদিন। যেটুকু বাকিছিল, মানে মাখাসন্দেশ আর ছানার কেক, ওদুটো ফেরার পথে কিনে নিলাম, station এর কাছের মিস্টির দোকানটা থেকে।


দুটো রাত সত্যি দারুন কাটল, আর কাটবে নাইবা কেন? ছোটবেলার ১৫ টা বছর, তা তো আর কম নয়। 

Note: From Howrah one can take any Katwa bound train to reach Ambika Kalna. There are trains from Sealdah as well. 108 Shiba Temples are about 2 Km from the railway station, one can take a Riksaw to reach their. The fare was Rs. 20 when we last visited the place.

Recommended Reading:
» Woman
» Uthan...
» A tour with friends: Tajpur

Tags: কালনা, ১০৮ শিবমন্দির, শিঁকরের খোঁজে

Comments

blog comments powered by Disqus