গত একবছরে

by Suman Kundu on August 10, 2013

কিছুদিন যাবত খুব লিখতে ইচ্ছে করছে। Blog টা খুলে দেখলাম শেষ নিবন্ধটা প্রকাশ করেছি তা প্রায় একবছরেরও উপরে। আগে তো নিয়মিতই লিখতাম! তাহলে, কি এমন হল? বিষয়ের অভাব হয়েছিল? নাকি অন্য কিছু? প্রশ্নটা করতেই মাথায় এলো, বিষয়ের অভাব কোথায়! বছরটি-তো বরং ঘটনা বহুল কেটেছে। তবে? অভাব ছিল লেখার খিদেটার। আজ আবার সেই খিদেটা অনুভব করতেই বসে পরলাম কলম ধরে। শিরনাম দেখে পাঠকগণ অবশ্যই ধারনা করতে পারছেন আজকের নিবন্ধটা কি নিয়ে। এখানে আমি আমার জীবনে গত এক বছরে যা যা ঘটেছে তার সাথে আপনাদের পরিচয় করাব॥

তিনমাস পূর্বে (এপ্রিল ২০১৩): আমার Center for Soft Computing Research এ তিন বছর সম্পূর্ণ হল। আমাকে এবারে Thesis Proposal দিতে হল। Evaluation টা মটেও ভাল কাটল না। এটা অবশ্য প্রত্যাশিত ছিল। এখানকার পরিবেশটাই এরকম। কাজের পরিমাণটা এখানে প্রকাশনের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়। আর আমার সেটা একদমই কম। প্রত্যাশা মতনই Extension টা ৬ মাসের হয়ে গেল। স্বাভাবিক ভাবেই খুব হতাশ লাগছিল॥

একমাস আগে (জুন ২০১৩): আমার দ্বিতীয় কাজটি Review-র জন্য পাঠালাম। এটা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। বিশেষ করে আগের মাসের Evaluation-টা যেমন গেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে। কাজটা কম সময়ে শেষ করতে পেরে বেশ ভাল লাগছে। নিবন্ধটা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। দেখা যাক এবারে কি হয়॥

দুইমাস আগে (মে ২০১৩): আমার জীবনের আর একটি বড় ঘটনা। আমি প্রথমবারের জন্য ভারতের বাইরে পাড়ী দিলাম। ৭ত দিনের জন্য। সাঁও পাওলো, ব্রাজিল। একটি Workshop-এ অংশগ্রহণ করতে। সেখান থেকে রিও। পুরো সফরটাই একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। তবে রিও থেকে ফেরাটা এক রোমাঞ্চকর ব্যাপার। আলাদা করে নিশ্চয়ই লিখব সেসব নিয়ে॥

ছমাস আগে (জানুয়ারি ২০১৩): কোন এক কারণে হঠাৎ ভারতীয় ভাষার ইতিহাস পরছিলাম। Indo-European ভাষাগুলির উৎপত্তি নিয়ে। বেশ ভাল লাগছিল। আমার স্মৃতি শক্তির উৎকর্ষতার কারণে এরকম প্রায়ই হয়ে থাকে যে একই জিনিষ বিভিন্ন সময়ে আমার একই রকমের আকর্ষক লাগে। এবিষয়ে আগে কখনো এরকম অনুভূতি হয়েছিল কিনা মনে নাই। তবে এবারে খুবি আকর্ষণ অনুভব করলাম। তাই একটা ভূত মাথায় চেপে বসল। সংস্কৃত ভাষা শেখার প্রচেষ্টা করতে থাকলাম। সেই ক্লাস ৭, ৮ এ পরেছিলাম। আর কিছুই মনে ছিলনা। খুব কাকতালীয় ভাবেই রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের Web Page এ দেখলাম ৪ মাসের প্রারম্ভিক সংস্কৃত শিক্ষার পাঠক্রম শুরু হতে চলছে। ভর্তি হয়ে গেলাম। ২৭ এ জানুয়ারি থেকে মে মাস অবধি প্রতি রবিবার, সুবোধ বালকের মতন ৩ন ঘণ্টার ক্লাস। সংস্কৃত নতুন করে শিখতে বেশ লাগল। ব্রাজিলে জাওয়ার দরুন অবশ্য পরীক্ষাটা দেওয়া হল না। তা যাকগে! শেখাটাই তো বড় কথা॥

আটমাস আগে (নভেম্বর ২০১২): ৩ন দিনের জন্য পুরুলিয়া গেছিলাম। অযোধ্যা পাহাড়। জঙ্গল পাহাড় আর ওখানকার মানুষ। তিনদিন দারুণ কাটল। ছৌ নাচ দেখতে পেলে অরও ভাল লাগত। কিন্তু সে সৌভাগ্য হয়নি। দেখলাম ছৌ মুখোস বানানো। উল্লেখ্য বলতে এখানে জীবনে প্রথমবার কোন সরকারি অতিথিশালায় থাকলাম। তাও আবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যেদিন পৌঁছলাম, সেদিন গিয়ে দেখি দরজায় তালা। আমাদের আগাম Booking ছিল। তা সত্যেও দরজায় তালা। এ বোধ হয় সরকারি ক্ষেত্রেই সম্ভব। কিছুক্ষণের চেষ্টায় জানা গেল, ছুটি বলে নাকি ওনারা শহরে গেছেন। আসার কোন ঠিক নাই। উপায় একটা হল। গ্রামে গিয়ে একজনের কাছ থেকে চাবি জোগাড় করা হল। যাই হোক তিনদিনের অবকাশ বেশ ভালই কাটিয়েছিলাম॥

একবছর আগে (জুলাই ২০১২): মাথায় নতুন পোকা নড়ল। যার জন্য পরবর্তী ৬মাস আমার অর কোন লেখাই হল না। একটা পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছে জাগল। বেশ কিছু লেখাও জোগাড় করলাম। Scribe খুলে Design ও করে ফেললাম। ভাবলাম পূজায় প্রকাশ করব। হল না। ভাবলাম নতুন বছরে প্রকাশ করব। হল না। এখনও কিছু টুকি টাকি Design বাকি পরে আছে। দেখা যাক এবার পূজায় যদি প্রকাশ করা যায়। তবে ISSN নম্বর টা নিয়ে তার পরেই প্রকাশ করব ভাবছি। জানি না ISSN নিতে হলে কি কি ঝামেলা পোহাতে হবে আবার। আশা করি লেখাগুলি আপনাদের ভাল লাগবে॥

গরুমারা জাতিয় উদ্যান (মে ২০১৩): দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে গরুমারা ঘুরতে গেলাম। ভেবেছিলাম গরমের সময় তাই জঙ্গল হয়ত শুখনো হবে। ভাল লাগবে না হয়ত। কিন্তু এবারে বর্ষা তাড়াতাড়ি (আসলে ঠিক সময়ে। অন্যান্য বার দেরি করে আসে) চলে আসায়, ব্যাপারটা ঠিক বিপরীত দাঁড়াল। চতুর্দিক সুধু সবুজ আর সবুজ। আহাঃ! একদিন তো সারাদিন বৃষ্টি হল। জঙ্গলে বৃষ্টি, সে এক অসাধারণ দৃশ্য। দারুণ উপভোগ্য। অবশ্য গৌড় (Indian Bishon) দেখা হয়নি। ভেবেছিলাম দেখতে পাব। ওখানকার একজন জানাল, জঙ্গলের ভিতরে খাবার মানে গাছ বেড়ে জাওয়ায় ওরা আর বাইরের দিকে আসছে না। ফলত দ্বিতীয়বার আবার ওখানে জাওয়ার ইচ্ছেটা প্রগাঢ় রইল॥

এইভাবেই কাটল আমার গত একবছর। বুঝতেই পারছেন বছরটা ঘটনা বহুলই কেটেছে। সুধু আমার ওয়েবসাইট টা এখনো একবছর আগেই দাঁড়িয়ে আছে। এই একবছরে আমার মধ্যেও কিছু কিছু পরিবর্তন হয়েছে। ইংরাজিতে লেখার ইচ্ছেটা দিন দিন কমছে। ভাবছি এবার থেকে বাংলা তেই লিখব। অনেক পাঠকই হয়ত ইংরাজিকে প্রাধান্য দেবেন। ইংরাজি তে লেখা ছেরে দেব এমনটি অবশ্য এখনো ভাবিনি। তবে সংখ্যায় অবশ্যই কমে যাবে। পরবর্তী লেখাটার জন্যে এবারে আর একবছর অপেক্ষা করতে হবে না, এই কথা দিয়ে আজকের লেখাটা শেষ করছি। ভাল থাকবেন॥

Comments

blog comments powered by Disqus