আর নাই

তাল পাতার চাটাই পেতে, বৈঠকখানার আসরে মেতে,
এঁটেল মাটির পুতুল গড়া, ঢেঁকি ভাঙ্গা চাল, কোলঙ্গার ঐ আয়নাটি আজ বড়ই বেহাল।
খোলামকুচির খেলনা বাটি, দাদুর খোলা দাঁতকপাটি,
লতা পাতার নুপুর পরে, মরাই এ পেঁচা ডাকে তোরে, সদরে জোনাকিটা আলো জালে নাই।
খোকনের কাজললাতা প্রদীপ ছাড়া, চুষিকাঠি মধু হারা,
ঘাঘরায় জল ভরা, চালভাজায় কুসুম বীজ খেল বল’তো কারা?
গরুর ডাবায় আজ ফেন প’ড়ে নাই, পোয়াল ছাতু সেই সার কুড়ে ছাই।
কাঁথা, কানি সব ভিজে রইল, পাছুড়ে কুলো তাই রোদে দিলি ভাই?
আঙ্কুড় ফল মিষ্টি হলেও, গন্ধ খানি খাঁটি, বুনো শিবের গাজন তলায়, বান ফোঁড়ান দেখবি নাকি?
শীতল দিতে যেত দাদু ঘন্টা-কাঁসি হাতে, ঠান্ডা ভোগ আনতো বটে, মন্ডাও থাকতো সাথে।
মাটির তেল ফুরায়ে এল, হারিকেন নিভায়ে গেল, চৌকাঠে রুপো-তামার আনা-কড়ি গাঁথাই হল।
দেওয়ালে ঘুঁটে কোথায়, সুধু লাল পোঁড়া ইঁট, আনলায় ঝুলছে সেই খুঁটোয় বাঁধা গিঁট।

Comments